আমার আপনার ছেলে যে বয়সে একা টয়লেট যেতে ভয় পায় সেই বয়সে নিজের ভিডিও গেম ডেভলপ করে নজর কেড়েছিল ছেলেটি। খুব অল্প বয়সেই তার বাবা মা তাদের আদরের ছেলের প্রযুক্তির দিকে ঝোঁক লক্ষ করেন আর মাত্র ১০ বছর বয়সে তাকে কিনেদেন একটি কম্পিউটার এবং শেখানো হয় কিভাবে কোড ল্যাঙ্গুয়েজ লিখতে হয়। আর যে বয়সে আপনার ছেলে ভিডিও গেম কেনার বায়না করে সেই বয়সে বাচ্চাটি নিজের ভিডিও গেম ডেভলপ করে ফেলে। মাত্র ১২ বছর বয়সী বাচ্চার এই ভিডিও গেমটি পরবর্তীতে ৫০০ ডলারে বিক্রি হয়। এই ক্ষুদে ছেলেটিই আজ সারা বিশ্বের মানুষকে কিভাবে মঙ্গল গ্রহে বসবাস করা যায় তার স্বপ্ন দেখিয়েছে। তিনি স্পেস এক্স এবং টেসলা কোম্পানির সিইও ইলন মাস্ক। তবে ছোটবেলা টা তার খুব একটা ভালো কাটেনি। তিনি খুব একটা মিশুকে ছিলেননা তবে পড়তে ভালো বসতেন, মাত্র ১০ বছর বয়সেই পড়ে শেষ করে ফেলেছিলেন ভিক্টোরিয়া বৃটানিকা এনসাইক্লোপিডিয়া। বন্ধুদের বুলিং এবং স্লেজিং সহ্য করতে হয়েছে। এবং এমন সব কারণের জন্যে তাকে হাসপাতালেও যেতে হয়েছে। তবে কোথায় আছে আপনি যদি এমন কিছু করতে চান যেটা সবার থেকে আলাদা তাহলে আগে আপনাকে সবার থেকে আলাদা হতে হবে আর তার বাস্তব প্রমাণ দশ বছরের এই তরুণ যাকে তার সহপাঠিরা পাগল বলে ডাকতো।


আজ থেকে ৬০ বছর আগে ১৯৭১ সালের ২৮ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার গুটেং প্রদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি শহর প্রিটোরিয়া তে জন্ম হয় ইলন মাস্ক এর। তার পিতা এরল্ড মাস্ক একজন ইঞ্জিনিয়ার এবং সাথে সাথে একজন পাইলট ছিলেন এবং মাতা মায়ে মাস্ক ছিলেন একজন মডেল এবং ডায়েটিশিয়ান।


ছোটবেলা থেকেই পড়তে ভালোবাসা ইলন মাস্কের টেকনোলজির প্রতি প্রবণতা লক্ষ করে তার বাবা মা তাকে মাত্র ১০ বছর বয়সে একটি কম্পিউটার দেন এবং কোড ল্যাঙ্গুয়েজ শীক্ষা দেন। আর মাত্র ১২ বছর বয়সে এই ক্ষুদে কারোর সাহায্য ছাড়াই বানিয়ে ফেলে ব্লাস্টার নামের নিজের প্রথম গেম যেটি তিনি PG and Office Technology নামের একটি সংস্থাকে বিক্রি করেন। এটিই ছিল তার জীবনের প্রথম ইন্টার্নশিপ।


একবার তাকে তার স্কুলের ছাত্ররা সবাই মিলে সিডি থেকে ফেলে দেয় এবং তাকে ততক্ষন মারে যতক্ষণ না সে অজ্ঞান হয়ে যায়। এর কারণে তাকে হাস পাঠালেও যেতে হয়। তবে এই কারণে তিনি আজকের সময়ের ছেলে মেয়েদের মত হাল ছেড়ে দেননি। অতীতের এমন সব বেদনাদায়ক স্মৃতি থাকা সত্বেও তিনি জীবনে যেসব উদ্যোগ নিয়েছেন মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্যে এবং তাকে সবথেকে প্রতিভাবান উদ্যোক্তা বা 'most genious entrepreneur' বলা হয়।



১৯৫৫ সালে তিনি PHD করতে ক্যালিফোর্নিয়া যান। কিন্তু রিসার্চ শুরুর দুদিনের মাথায় তিনি কলেজ ছেড়েদিয়ে একজন সফল ব্যবসায়ী হবার জন্যে পাড়ি দেন। ১৯৫৫ সালেই তিনি তার ভাইয়ের সাথে Zip 2 নামের একটি সফটওয়্যার বানান যেটি পরে 'Compact' কোম্পানির চোখে পরে এবং তারা এটি ৩০৭ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে এটি কিনে নেয়। এবং এই কোম্পানির ৭% শেয়ার অর্থাৎ ২২ মিলিয়ন ডলার আসে ইলনের খাতায়। এই অর্থ থেকে ১৯৯৯ সালে ১০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ করে X.com এর স্থাপনা করেন যেটি পরে confinity নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হয়। এবং পরে এটিই PayPal এ রূপান্তরিত হয় যা বর্তমানে পৃথিবীর সব থেকে বড় money transfer agency যেটিকে কিনতে গিয়ে ebay কে গুনতে হয়েছে দের বিলিয়ন ডলার। এবং এই ডিল টির পর PayPal কোম্পানির সবথেকে বড় শেয়ার হোল্ডার ইলন পান ১৬৫ মিলিয়ন ডলার। ২০০১ সালে তার এই বিরাট অঙ্কের সশ্রয়ের থেকে ১০০ মিলিয়ন দিয়ে তিনি SpaceX প্রতিষ্ঠা করেন। যেটি বর্তমানে মানুষকে মঙ্গল গ্রহে বসবাসের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ২০০৩ সালে তিনি আরো একটি নজরকাড়া কোম্পানি Tesla শুরু করেন এবং ২০০৮ থেকে এই কোম্পানির সিইও হিসাবে কাজ শুরু করেন।


তার প্রচুর সম্পদ এবং বিশ্বব্যাপী খ্যাতি থাকা সত্ত্বেও, এলন মাস্ক এমন একজন ব্যক্তি যিনি ক্রমাগত আরও বেশি, বড় এবং আরও ভাল করার জন্য প্রচেষ্টা করেন। তিনি স্পেসএক্স-এর জন্য তার দৃষ্টিভঙ্গির উপর তীক্ষ্ণভাবে মনোনিবেশ করেছেন: মঙ্গলে একটি স্থায়ী মানুষের উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা করা, এর স্টারশিপ রকেটগুলি লাল গ্রহে এবং সেখান থেকে মানুষকে পরিবহন করে। এবং টেসলার জন্য মাস্কের লক্ষ্যগুলির বিষয়ে, তিনি 2030 সালের মধ্যে 20 মিলিয়ন যানবাহনের উৎপাদনের দিকে নজর রেখেছেন এবং ভারতে প্রসারিত হওয়ার আশা করছেন, যা আগামী দশ বছরের মধ্যে টেসলার চাহিদার 10% পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।